মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ভাষা ও সংস্কৃতি

নড়াইল বৃহত্তর যশোর জেলার অংশ। ভাগীরথী  এবং মধুমতীর মধ্যবর্তী অঞ্চল হওয়ায় নদীয়া  শান্তিপুর অঞ্চলের ভাষার সাথে এই জেলার ভাষার কিছুটা মিল আছে। খুলনা এবং ফরিদপুর জেলার ভাষার সাথে এই জেলার  ভাষার বেশ মিল রয়েছে। ভৌগলিক কারণে  প্রতি ১৫/২০ কিলোমিটার  দূরত্বের  ব্যবধানে  ভাষা ব্যবহার ও উচ্চারণে  যথেষ্ট  পার্থক্য দেখা যায়। নড়াইল জেলার আঞ্চলিক ভাষার ক্ষেত্রে বর্ণ বিপর্যয় দেখা যায় এবং ব্যঞ্জন বর্ণের ক্ষেত্রে ক ও খ এর সহলে হ এর ব্যবহার এবং  ট এর সহলে ড এর এর ব্যবহার এবং একই পদ  কিংবা শব্দে বার বার ন বর্ণের ব্যবহার প এর  সহলে ফ  এবং  ত এর সহলে ব  এর ব্যবহার লক্ষনীয় ।

মুলসহ আঞ্চলিক ভাষার কতিপয় শব্দ

চলতি রুপ

আঞ্চলিক রুপ

চলতি রুপ

আঞ্চলিক রুপ

চলতি রুপ

আঞ্চলিক রুপ

পয়সা

পয়সা

সকাল

বিয়ান

ছোট শিশু

ন্যাদা

ভাত

বাত

গাট্রি

টুপলা

ল্যাম্প

কুপি

ভিক্ষা

বিককা

শাশুড়ি

শাউড়ি

শাপলা

নাইল

পথ

ফত

এসো

আইগো

বৃষ্টি

ডক

টাকা

টাহা

চোখা

চোহা

রান্না

রান্দা

কোনটা

কোনডা

বাধিয়া

বান্দে

বারান্দা

হাত্ন

ভাইটি

ভাডি

নারিকেল

নারেল

আখ

কুশোইর

 

আরো দেখা যায়  নাবো  নানে, খাবো নানে, করবানে, যাবানি, দিবানি, দেহিশক্যানে, এ্যানেণ, পারবিনানে  ইত্যাদি  একই  শব্দে ন বর্ণের বহু  ব্যবহার  লক্ষ্য করা যায়। উদাহরণ  স্বরুপঃ

 

সাধু ভাষা

চলিত ভাষা

আঞ্চলিক ভাষা

গিয়াছিলে

গিয়েছিলে

গিছিলে

খাইয়াছি

খেয়েছি

খাইছি

 

যদি বাক্য তৈরী  করা হয় সেক্ষেত্রে ‘‘ তুমি কোথায়  গিয়েছিলে ’’ সহানীয় ভাষায়  হবে ‘‘ তুমি কুহানে  গিছিলে’’। একই  ভাবে  ‘‘ তোমাকে  কতদিন দেখিনি ’’ এই  বাক্যটি  সহানীয়  ভাষায়  হবে  ‘‘তোমারে  কদ্দিন দেহিনি’’।

সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের মাঝে ব্যক্তি, গোত্র, সমাজ ও জাতির চরিত্র ফুটে ওঠে। সেজন্যই সাংস্কৃতি হলো জাতির দর্পন। ছোট জেলা নড়াইল সাংস্কৃতিক ভাবে সমৃদ্ধ। প্রাচীন কাল হতে খেলাধুলা, সংগীত, সাহিত্য, চিত্রকলা ইত্যাদি বিষয়গুলিকে তাই খ্যাতিনাম ব্যতীত এ জেলায় দেখা যায়- যাদের অবদান জাতীয় পর্যায়ের সীমারেখাভেদ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে । 

 

    

চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের চিত্রকর্ম  ( তৈল চিত্র)

অভিনয়ের ক্ষেত্রে সন্ধা রায় এ জেলার মানুষ, সুচিত্রা সেন আশৈসব বেড়ে ওঠেছেন এখানে । সুরকার ও কন্ঠশিল্পী কমল দাস গুপ্ত এ জেলার মানুষ। সংগীতে বিশেষ করে কবি গানের নমন্য পুরুষ বিজয় কৃষ্ণ অধিকারী বা বিজয় সরকার এবং জারী সম্রাট চারণ কবি মোসলেম উদ্দিন এ জেলার মানুষ। প্রচীন কবি ও সাহিত্যিক গুরুনাথ সেনের বাড়ী এখানে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস, এম, সুলতান, লাল মিয়া নড়াইলের গর্বিত সন্তান। ক্রীড়াক্ষেত্রে টেবিল টেনিসের অপ্রতিরোধ্য খেলোয়াড় মোস্তফা বিল্লাহ এবং ক্রিকেটে ডলার মাহমুদ এবং মাশারাফী বিন মর্তুজা কৌশিক নড়াইলের কৃতি সন্তান। মোট কথা বিট্রিশ শাসন আমলে জমিদারদের আনুকূল্য ও প্রচেষ্টায় নড়াইল জেলায় ক্রীড়া সংগীত, সাহিত্য, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে উন্নয়নের যাত্রা শুরু করে তা সমৃদ্ধ হয়েছে যথেষ্ঠ, উর্বর করেছে জেলার মাটিকে এবং গর্বিত সন্তানদের পদভারে নড়াইল হয়েছে সুষমান্ডিত ।

নড়াইলের সাংস্কৃতিক সংগঠনের নাম ও ঠিকানা

অনেক আগের থেকে সংস্কৃতি উর্বর ভূমি নড়াইলে সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখার চর্চা দেয়া যায়। এ চর্চা পারিবারিক সীমানায় বন্দী ছিল। কিন্তু সময় যুগের প্রয়োজনে এ চর্চাক্ষেত্র বিস্তৃত হয় এবং তা বাণিজ্যিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ লাভ করে। নিমেণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের তালিকা সন্নিবেশিত হলোঃ-

নড়াইল সদর উপজেলার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সমূহ  

০১। চিত্রা থিয়েটার, সুলতান মঞ্চ চত্ত্বর, রুপগঞ্জ, নড়াইল। মোবাইল-০১৬৭০-১৭৩৫৩৫।

০২। নাট্য নন্দন, সুলতান মঞ্চ চত্ত্বর, রুপগঞ্জ, নড়াইল মোবাইল-০১৭১৯-৭৯১০৮৯।

০৩। মুর্ছনা সংগীত একাডেমী, সুলতান মঞ্চ চত্ত্বর, রুপগঞ্জ, নড়াইল মোবাইল-০১৭১৬-৯৫৩৭২৯।

০৪। ছায়ানট ললিত কলা পরিষদ, সুলতান মঞ্চ চত্ত্বর, রুপগঞ্জ, নড়াইল মোবাইল-০১১৯৬-০৮৫৬৭৮।

০৫। বেনুকা সংগীত নিকেতন, সুলতান মঞ্চ চত্ত্বর, রুপগঞ্জ, নড়াইল।

০৬। সরগম সংগীত বিদ্যালয়, সুলতান মঞ্চ চত্ত্বর, রুপগঞ্জ, নড়াইল মোবাইল-০১৭১৫-১৪৩৫০৭।

০৭। গ্রেভ শিল্পী গোষ্ঠী সুলতান মঞ্চ চত্ত্বর, রুপগঞ্জ, নড়াইল ।

০৮। ছন্দায়ন, সুলতান মঞ্চ চত্ত্বর, রুপগঞ্জ, নড়াইল।

০৯। এস, এম সুলতান শিশু চারু ও কারু কলা ফাউনডেশন, কুড়িগ্রাম, নড়াইল। মোবাইল- ০১৭১২৬৫৮৪৭৩।

১০। মানিক চয়ন স্মৃতি সংসদ, সুলতান মঞ্চ চত্ত্বর, রুপগজ্ঞ, নড়াইল ।মোবাইল-০১৭১৮-০৫৬৫৫০।

১১। যুগান্তর সাংস্কৃতিক সংসদ, সুলতান মঞ্চ চত্ত্বর, রুপগঞ্জ, নড়াইল। মোবাইল-০১৭১৫-৩৫৯৮৬৫।

১২। উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, পুরাতন বাস টার্মিনাল, নড়াইল ।

১৩। বিজয় সদন, আলাদাৎপুর, নড়াইল। মোবাইল নং-০১৭১১-৩০৮৪১৮।

১৪। লাল গোলাপ নৃত্য একাডেমী, নড়াইল।

১৫। শ্রুতিছন্দ সংগীত বিদ্যালয়, ভওয়াখালী, নড়াইল।

১৬। নজরুল স্বপন সংগীত নিকেতন, সুলতান মঞ্চ চত্ত্বর, রুপগজ্ঞ, নড়াইল মোবাইল-০১১৯১১৩১১০৮।

১৭। মোসলেম স্মৃতি পরিষদ, তারাপুর, নড়াইল। মোবাইল ০১৭১০-৮৭৫৩৫৬।

১৮। নড়াইল সাহিত্য পরিষদ, হাসপাতাল মার্কেট, ২য়তলা, নড়াইল। মোবাইল-০১৯১১-১৩২৯৯৬।

১৯। আববাস আলীম সংগীত একাডেমী, নড়াইল।

২০। নজরুল একাডেমী, নড়াইল।

২১। জেলা সাহিত্য পরিষদ, নড়াইল।

২২। সাহিত্য পরিষদ, নড়াইল।

২৩। নৃত্যায়ন, নড়াইল।

২৪। নৃত্য ধারা, নড়াইল।

২৫। নৃত্য নিকেতন, নড়াইল।

২৬। সুরধাম, নড়াইল।

২৭। লাল বাউল সম্প্রদায়, নড়াইল।

২৮। গোবরা সংগীত একাডেমী, নড়াইল।

২৯। মাইজপাড়া সাংস্কৃতিক সংঘ, নড়াইল।

৩০। মুলিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন, নড়াইল।

 

দলগুলির কার্যক্রম সুলতান মঞ্চ কেন্দ্রীক  ।

 

লোহাগড়া উপজেলার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের তালিকা

১। গণনাট্য সংসহা, কলেজ রোড, লোহাগড়া, নড়াইল সার্বিক তত্ত্ববধানে - কেষ্ট ঠাকুর

মোবাইল নং-০১৭২৪-১৯৭৯৭১।

২। রবীনন্দন সংগীত বিদ্যালয়, কলেজ রোড, লোহাগড়া, নড়াইল, সার্বিক তত্ত্ববধানে- মাহমুদ,

মোবাইল-০১৯১৪-১৩০৯৬৩ ।

৩। শহীদ মিজান সংগীত একাডেমী, জয়পুর, লোহাগড়া, নড়াইল সার্বিক তত্ত্ববধানে-কামাল

মোবাইল-০১৯১২-২৮৩৩২০।

৪। অনির্বাণ শিল্পী গোষ্ঠী, লোহাগড়া, নড়াইল। সার্বিক তত্ত্ববধানে-অনীল ।

৫। অন্তরা শিল্পী গোষ্ঠী, লক্ষীপাশা, লোহাগড়া, নড়াইল, সার্বিক তত্ত্ববধানে-মিলু ঠাকুর।

কালিয়া উপজেলার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সমূহঃ

০১। উদীচি শিল্পী গোষ্ঠি, বড়দিয়া বাজার, কালিয়া, নড়াইল ।

মোবাইল-০১৭১৮-২০৬২৮২/০১৯১৮-২৮০৭৪২।

০২। সংগীত আশ্রম, কালিয়া বাজার, কালিয়া, নড়াইল।

০৩। লাল বাউল সংগীত একাডেমী, কালিয়া বাজার, কালিয়া, নড়াইল।

০৪। উদয় রবী শিল্পকলা একাডেমী, কালিয়া বাজার, কালিয়া, নড়াইল। মোবাইল ০১৭১৬-২২০৪৭২।

০৫। বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদ, কালিয়া বাজার, কালিয়া,নড়াইল। মোবাইল-০১৭১৮-৫৫২৮২৩।

০৬। ক্লাসিক শিল্পকলা একাডেমী, বড় কালিয়া, কালিয়া, নড়াইল। মোবাইল-০১৭১৬-২২০৪৭২।

 

চিত্রা নদীতে নৌকা বাইচ

 

একুশের দীপশিখা প্রজ্জলন, কুড়িরডোব মাঠ, নড়াইল।